রিপোর্টার: মোঃ শামীম আহমেদ, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে লাল দিঘী থেকে উদ্ধার হলো একটি মূল্যবান কষ্টি পাথরের মূর্তি। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় শিশুদের খেলার সময় মূর্তিটি পানির ওপর ভেসে থাকতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেমি পারভীন (১২), পিতা জব্বার শেখ (৫৪)—মেহেদি পাতা তুলতে গিয়ে পুকুরের পূর্বপাশে মাটির নিচে কালো পাথরের অদ্ভুত আকৃতির বস্তু দেখতে পায়। একই সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিল জেসিকা (৮), পিতা আব্দুল জলিল এবং মুত্তাকিম (৮), পিতা আরিফ শেখ। তারা প্রথমে বিষয়টি জেমির মাকে জানায়। পরে খবর পৌঁছায় স্থানীয় গ্রাম সভাপতি মজাহার ইসলাম লাল্টু সরকারের কাছে।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে পেরে লাল্টু সরকার দ্রুত চেয়ারম্যান কে এম মনোয়ার হোসেনকে বিষয়টি জানান। চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশকে অবহিত করেন। রাত আটটার দিকে এসআই আল-আমিন চার সদস্যের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকৃত মূর্তিটি সংগ্রহ করেন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি কালো পাথরের এবং আংশিক ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এর উচ্চতা প্রায় ১২ ইঞ্চি এবং ওজন ৯ কেজি ৬৪০ গ্রাম। উপরের অংশ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকলেও নিচের অংশ অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। মূর্তিটি প্রাথমিক ভাবে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে এর বয়স, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও মূল্য যাচাই করা হবে।
স্থানীয় প্রবীণদের দাবি, অতীতে সুলতানপুর এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বসতি ছিল। এখানে সতিস এবং জতিস পরিবারের বসতভিটা ও নানা প্রত্নচিহ্ন পাওয়া যেত। সম্ভবত সেই সময়কার কোনো দেবদেবীর মূর্তি এটি—এমনটিই ধারণা করছেন এলাকাবাসী।
উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। স্থানীয়রা মূর্তিটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে এলাকার ঐতিহ্য তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—মূর্তিটির প্রাথমিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অনুমান ভিত্তিক তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ করা হয়েছে।
সম্পাদক: মোছাঃ নার্গিস সুলতানা। নির্বাহী সম্পাদক, আনোয়ার হোসেন রকি। প্রকাশক: মোঃ হাবিবুল্লাহ daily10starbd24.live
Copyright © 2026 daily10starbd24.live. All rights reserved.