রাউজান প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম জেলার রাউজানের পূর্ব গূজারা ইউনিয়নের বাদী ও বিবাদীর এরশাদ আলী সেরাং বাড়ীর বাসিন্দা,আহমদ করিম(৪৩) ও তার ভাই ছাফয়ানুল করিমের(৩৪) (পিতা - মৃত আবু মিয়া) সাথে জায়গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধদের জেরে এতে জড়িত পড়ে তালুকদার পরিবারের ইউছুফ তালুকদার (৪৫) পিতা - মৃত রনজু মিয়া, সাদ্দাম তালুকদার (২৮)পিতা- মৃত রনজু মিয়া, ইলিয়াস তালুকদার (৪০)পিতা - মৃত রনজু মিয়া, মুন্না তালুকদার (২৪)পিতা - মৃত কামাল উদ্দিন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে প্রবাসী আকতার ও জাবেদ ওয়ারিশ সুত্রে নিজেদের বসভিটাতে বসবাস করে আসছেন বহু বছর থেকে, তারা নতুন করে গৃহনির্মাণ করতে চাইলে আহমদ করিম তাদের কাছে জমি পাবে বলে একটি মিছ মামলা করেন (৯৮৬/২০২৪ইং রাউজান), আহমদ করিম তার মিছ মামলাতে উল্লেখ করেন তাদের নামে আর এস জরিপের ৫৬৯৩ নং খতিয়ানের চুড়ান্ত প্রচার আছে এবং তাদের নামে বিএস ৪৫৬৭ নং খতিয়ানের প্রচারিত আছে, ৫৬৯৩ এর আর এস দাগ নং ২১৪৬২/২১৪৬৭/২১৪৬৮ দাগাদির আন্দর বি এস খতিয়ান ২৪৭৯ এর অধীনে বি এস ৩২৬১২/৩২৬১৩ দাগাদির আন্দর এবং বি এস খতিয়ান নং ৪৫৬৭ এর অধীন ৩২৭৬১৫/৩২৬১৭/৩২৬১৮ মোট ২৮ মতক নাল জমির মালিকানা দাবী করেন, এর এই মামলা খারিজ হয়ে গেলে আকতার ও জাবেদ আবারো নির্মান কাজ শুরু করেন, এতে নতুন করে আবারো মিছ মামলা (৩৪/২০২৬ ইং রাউজান) দায়ের করেন আহমদ করিমের ভাই ছাফয়ানুল করিম,আবারও কাজ বন্ধ রাখেন জাবেদ, একি সূত্রে দুইটি মামলা হওয়াতে এই মামলাটিও খারিজ হয়ে যায়।
অন্যদিকে প্রবাসী আকতার, ইকবাল,জাবেদ ও আছমা আকতারের মাতা রোকেয়া বেগম পৈতৃক সূত্রে মালিক, তারা পিতা মৃত সাহেব মিয়া, মৃত সাহেব মিয়ার পিতা মৃত নজর আলী মনিন্দ্র লাল চৌধুরীর নিকট হতে ১৪/১২/৫২ ইং সনে মোট তিন দাগে জমি ক্রয় করেন,যার আর এস নাম্বার ২১৪৬০ তৎকালীন এক আনা জমি,২৮৬৮৪ দাগে আর এস ২১৪৬২ দাগে ৩ শতক, ২১৪৬৮ দাগে ৮ শতক জমি ক্রয় করেন, আর এস ৪৪৫৩/৫৬৯৩ নং এ ২ শতক জমি ক্রয় করেন, যার দলীল এখনো তাদের কাছে বর্তমান।
ঘটনার সূত্রপাত:
জাবেদ আবারো গৃহনির্মাণ কাজ শুরু করলে তালুকদার পরিবার এতে বাঁধা প্রদান করে চাঁদা দাবি করে (যা আহমদ করিম ও ছাফয়ানুল করিমের যোগসাজশে)। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা জাবেদের উপরে ক্ষিপ্ত হয়, আহমদ করিম বিনা নোটিশ আকতারের সীমানায় পিলার দিয়ে কিছু জমি দখলে নিয়ে নেয়, এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হলেও তাতে কোন লাভ হয়নি।
গত ৭ই মার্চ জাবেদ নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করছিলেন,সেই দিন রাত দশটার দিকে করিম ও তালুকদার পরিবার পরিকল্পিত ভাবে হামলা করার উদ্দেশ্য এসেই প্রথমে জাবেদ ও নির্মান শ্রমিকদের প্রহর করতে থাকে। বাহিরে সোরগোল শুনে বাহিরে আসার চেষ্টা করলে আকতারের মা ও বোনকে ঘরে আটকিয়ে রাখা হয়, বোন জানালা দিয়ে ঘটনা দেখা ও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তালুকদারের লোকজন তা দেখে ফেলে, পরে তারা ঘরে ডুকে আকতারের বোনের হাত থেকে মোবাইল ফোনটি কেঁড়ে নিয়ে তাদের (মা ও বোন) কে লাঞ্ছিত করে,ঘরে লুটপাট চালায়। যদি তালুকদার পরিবারের নজর ও প্রবাসী ইকবাল,আকতার ও তাদের ভাই জাবেদের বর্তমান দখলকৃত ভূমি বা জমি(মালিকানাসূত্রে) উপরে আছে, তারা এর কাছাকাছি কিছু লোকের ভূমি জোর করে দখল করে রেখেছে।

ইউছুফ তালুকদার বর্তমানে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আছেন, বলে প্রশাসনের থেকেও তেমন টেকসই সহায়তা পাচ্ছেনা প্রবাসী আকতারের পরিবার, ঘটনার দিন থেকে প্রাণের ভয়ে এলাকা ছাড়া আকতারের সহোদর জাবেদ, এছাড়া মুন্না তালুকদার মুঠোফোন আকতারকে দিচ্ছেন হুমকি, রোকেয়া বেগম বাড়ীতে থাকলেও বিপদ সর্বদা তার মাথার উপরেই অবস্থান করছে, নিজ সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকিতে দিশেহারা মা পাগল প্রায় অবস্থায়।

আকতার বাধ্য হয়ে আবর আমিরাতে দূতাবাসের মাধ্যমে একটি অভিযোগ পত্র বাংলাদেশর সিনিয়র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করেন।যেখানে প্রশাসনের আইনি সহায়তা কামনা করেন।

অভিযোগ পত্রে তিনি উল্লেখ করেন চট্টগ্রাম জেলাধীন রাউজানের পূর্ব গুজারা ইউনিয়নে তার স্থায়ী বসবাস,তার পরিবারের নিকট মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে হামলা,লুট ও ভাঙচুরের মত ঘটনা ঘটে,তার ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ছিনতাই করে,পরিবারের সদস্যদের মারাত্মকভাবে জখম ও হত্যা চেষ্টা করা হয়,অভিযোগে বলা হয় মো: ইউছুফ তালুকদার সহ ১০ জন মিলে এমন কর্মকান্ড পরিচালনা করেন, যাদের মধ্যে আহমদ করিম ও ছাফয়ানুল করিম স্ব শরীরে উপস্থিত ছিলেন, তিনি অভিযুক্তদের গ্রেফতার সেই সাথে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও মোবাইল উদ্ধার এবং নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য আবেদন করেন।
সম্পাদক: মোছাঃ নার্গিস সুলতানা। নির্বাহী সম্পাদক, আনোয়ার হোসেন রকি। প্রকাশক: মোঃ হাবিবুল্লাহ daily10starbd24.live
Copyright © 2026 daily10starbd24.live. All rights reserved.