
রাজশাহীতে গভীর রাতে পুকুর খননের তাণ্ডব উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নাইম হোসেন,দুর্গাপুর রাজশাহী রাজশাহী জেলার প্রতিটি উপজেলায় চলছে অবৈধ পুকুর খননের হিড়িক। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নিরব আশীর্বাদে চলছে এই খনন কার্য । বর্তমানে জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় সব থেকে বেশি পুকুর খনন হচ্ছে । প্রশাসনের নাকের ডগাই রাতের আঁধারে চলছে অবৈধ পুকুর খননের রীতিমতো তাণ্ডব। কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়ায় তিন ফসলি কৃষি জমিতে গভীর পুকুর কেটে সেই মাটি প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। দিনের আলোই সব নীরব, কিন্তু রাত নামলেই মাঠ দখল করে এক শক্তিশালী মাটি খেকো পুকুর সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের দাপটে প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায়। কেউ মুখ খুললেই হুমকি-ধামকি ,ভয়-ভীতি আর মিথ্যা মামলার আতঙ্ক। সরেজমিনে দেখা যায়,প্রতিদিন রাত ১০টার পর ভারী যন্ত্রপাতি (এসকেভেটর) নিয়ে মাঠে নামে শ্রমিকরা। দিনের বেলায় কোনো কাজ না থাকলেও রাত হলেই শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব। স্থানীয়দের ভাষ্য-এভাবে রাতের অন্ধকারকে ঢাল বানিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের হাত করে নির্বিঘ্নে চলছে অবৈধ কর্মকাণ্ড। প্রথম দিকে প্রশাসন কঠিন ভূমি পালন করেছে, বিভিন্ন স্থানে অভিযান দিয়ে জেল, জরিমানা,মামলা,খনন যন্ত্র অকেজো সবটাই করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। আবার এই প্রশাসন বর্তমানে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন । তাহলে কি অর্থের কাছে প্রশাসন তাদের নীতি ও আদর্শ বিক্রি করেছেন এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের। বর্তমানে নওপাড়া ইউনিয়ন আলিয়াবাদ গ্রাম পুরানতাহেরপুরের জিয়ার তত্বাবধানে ১৩ একর। অন্যদিকে,৭নং জয়নগর...
নাইম হোসেন,দুর্গাপুর রাজশাহী
রাজশাহী জেলার প্রতিটি উপজেলায় চলছে অবৈধ পুকুর খননের হিড়িক। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নিরব আশীর্বাদে চলছে এই খনন কার্য । বর্তমানে জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় সব থেকে বেশি পুকুর খনন হচ্ছে । প্রশাসনের নাকের ডগাই রাতের আঁধারে চলছে অবৈধ পুকুর খননের রীতিমতো তাণ্ডব।
কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়ায় তিন ফসলি কৃষি জমিতে গভীর পুকুর কেটে সেই মাটি প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। দিনের আলোই সব নীরব, কিন্তু রাত নামলেই মাঠ দখল করে এক শক্তিশালী মাটি খেকো পুকুর সিন্ডিকেট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের দাপটে প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায়। কেউ মুখ খুললেই হুমকি-ধামকি ,ভয়-ভীতি আর মিথ্যা মামলার আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়,প্রতিদিন রাত ১০টার পর ভারী যন্ত্রপাতি (এসকেভেটর) নিয়ে মাঠে নামে শ্রমিকরা। দিনের বেলায় কোনো কাজ না থাকলেও রাত হলেই শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব। স্থানীয়দের ভাষ্য-এভাবে রাতের অন্ধকারকে ঢাল বানিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের হাত করে নির্বিঘ্নে চলছে অবৈধ কর্মকাণ্ড।
প্রথম দিকে প্রশাসন কঠিন ভূমি পালন করেছে, বিভিন্ন স্থানে অভিযান দিয়ে জেল, জরিমানা,মামলা,খনন যন্ত্র অকেজো সবটাই করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। আবার এই প্রশাসন বর্তমানে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন । তাহলে কি অর্থের কাছে প্রশাসন তাদের নীতি ও আদর্শ বিক্রি করেছেন এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।
বর্তমানে নওপাড়া ইউনিয়ন আলিয়াবাদ গ্রাম পুরানতাহেরপুরের জিয়ার তত্বাবধানে ১৩ একর।
অন্যদিকে,৭নং জয়নগর ইউনিয়নের আনুলিয়া বিলে জারজিস মেম্বার ও এরশাদের তত্বাবধানে ৫৯ একর, মোহনগঞ্জ স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুশান্ত ও আলামিনের তত্বাবধানে ১৫ একর এবং সুখানদিঘী বিলে আলামিনের তত্বাবধানে ৭ একর জমিতে চলছে অবৈধ পুকুর খনন।
এলাকাবাসীর দাবি,আনুলিয়া গ্রামের জারজিস (সাবেক মেম্বার),গাজীপুরের ছলিম (ভেকু দালাল) ও তাহেরপুরের এরশাদ (তাহেরপুর পৌরসভা হিসাব রক্ষক) নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ শক্তিশালী সিন্ডিকেট সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ১৭৬ বিঘা জমি খনন করে ফেলেছে।
ছলিম বলেন,উপজেলা বিএনপির নেতা এই পুকুরের সাথে জড়িত । হুমকির সুরে বলেন,কৃষক, সাংবাদিক ও প্রশাসন কিছুই করতে পারবে না।
আইন অনুযায়ী কৃষিজমিতে পুকুর খননের জন্য প্রশাসনের লিখিত অনুমতি ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে তার কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি।কৃষকদের আশঙ্কা বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে,যা পুরো এলাকার কৃষি উৎপাদনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে,পানবরজ পানিতে ডুবে যাবে । পুকুরের মাটি পরিবহনের জন্য ভারী ট্রলি ও ট্রাক চলাচলে এলাকার কাঁচা ও পাকা সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ভ্যানচালক মান্নান বলেন,মাটির রাস্তা দিয়ে উঠে পাকা রাস্তায় যেতেই গাড়ি দুলে ওঠে। ভারী গাড়ির চাপে রাস্তা গর্ত হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন,তিন ফসলি জমিতে পুকুর মানেই কৃষি ধ্বংস। রাত হলেই মাটি কাটে। ধুলাবালিতে রসুন, পেঁয়াজ, মসুরসহ সব ফসল নষ্ট হচ্ছে। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি। সর্বশেষ, বিভাগীয় কমিশনার,জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু কেউ শুনছে না।
এই বিষয়ে কথা হয় আফিয়া আক্তার(জেলা প্রশাসক, রাজশাহী) তিনি বলেন,আমার জানা মতে জেলার কোথাও কোন পুকুর খনন বা সংস্কারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুকুর বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে সরাসরি মামলা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ভিতরেও অভিযান দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানের অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান দিতে নির্দেশ দিয়েছি।