মোঃ সাগর সরকার স্টাফ রিপোর্টার:
ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রচারণার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, যেখান থেকে পাওয়া যাবে নগদ অর্থ সহায়তা। সরকার গঠনের পর সেই আশ্বাস বাস্তবায়নে ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠিত হয়েছে।
এই ফ্যামিলি কার্ড পেতে হলে আগে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করতে হবে। কিন্তু কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা হয়তো বেশিরভাগ মানুষই এখনো জানেন না। এও জানেন না, আবেদন করতে কী কী লাগবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক।
ফ্যামিলি কার্ডে’ দুর্নীতি রুখতে বিশেষ উদ্যোগ
আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য সংরক্ষণ
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে অনিয়ম, ভুয়া তালিকা ও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে।
প্রথম ধাপে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ডে’ দুর্নীতি রুখতে বিশেষ উদ্যোগ
আবেদন করতে যা যা লাগবে
যদিও পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবু আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নিচের কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে—
- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
- একটি সচল মোবাইল নম্বর
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভা কমিটি, ৮ উপজেলায় পাইলটিং
যেখানে আবেদন করতে হবে
পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি ঘরে বসে আবেদন করার সুবিধা দিতে একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
ফ্যামিলি কার্ডের লক্ষ্য ও সুবিধা কী
এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষভাবে পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান অনেক সামাজিক ভাতার তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হতে পারে। পাশাপাশি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
বিএনপি সরকারের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।