কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: নিজাম উদ্দীন
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিশেষ প্রতীকযুক্ত ‘টোকেন’ বাণিজ্যের মাধ্যমে মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাছ, দুই পাখি কিংবা বটগাছের ছবি সংবলিত এই টোকেনই এখন এই সড়কে যান চলাচলের ‘বৈধতা’। চালকদের দাবি, এই টোকেন থাকলে ট্রাফিক আইন ভাঙলেও ছাড় মেলে, আর না থাকলে বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও হতে হয় মামলার শিকার।
টোকেন সিন্ডিকেট: নিয়ম যখন চাঁদা
মহাসড়কের কটিয়াদী-ভৈরব অংশে চলাচলকারী কয়েক হাজার সিএনজি অটোরিকশা, পিকআপভ্যান ও মাইক্রোবাস চালকদের এই বিশেষ টোকেন সংগ্রহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। চালকদের ভাষ্যমতে
সিএনজি প্রতি মাসে ৫০০-১০০০ টাকা এবং পিকআপ ও অন্যান্য যানের জন্য ১০০০ টাকার বেশি আদায় করা হয়।
হয়রানির কৌশল: যারা মাসিক চুক্তিতে রাজি হন না, তাদের গাড়ি রিকুইজিশনের ভয় দেখানো হয়। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তুচ্ছ অজুহাতে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকার মামলা দেওয়া হয়।
বাণিজ্যের অঙ্ক: প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার সিএনজি ও ৩ হাজার পিকআপ চলাচল করে। চালকদের হিসেব মতে, ভৈরব ও কটিয়াদী—এই দুই থানায় মাসে আদায়ের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।মাসে ৫০০ টাকা দিলে আর ঝামেলা নেই। না দিলে গাড়ির সব কাগজ ঠিক থাকলেও মামলা দেয়। ভয়ে টাকা দিয়ে দেই।” — শরীফ মিয়া, সিএনজি চালক।
পুলিশের পোশাকে ‘ভাগনে’র দাপট
সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিযোগ উঠেছে কটিয়াদী হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মো. মারগুব তৌহিদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি তার ভাগনে নাঈম হাসানকে পুলিশের পোশাক (কটি) পরিয়ে সড়কে দায়িত্ব দিয়েছেন। ‘ভাগিনা নাঈম’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি টোকেন বাণিজ্য পরিচালনা করেন এবং কথা না শুনলে চালকদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে নাঈমকে পুলিশের কটি পরিহিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
নাগরিক সমাজ: নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. ফিরোজ উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, “এই টোকেন বাণিজ্যের কারণে সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে, যা জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। এর দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন।”
অভিযুক্ত পরিদর্শক মো. মারগুব তৌহিদ চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাজের সুবিধার্থে মাঝে মাঝে স্বেচ্ছাসেবক নেওয়া হয়।” তবে ভাগনেকে পুলিশের কটি পরানোর বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (প্রশাসন) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, হাইওয়ে পুলিশের যেকোনো অনিয়ম নজরে এলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।