সুমন আহমদ,​ দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় এক পাষণ্ড বৃদ্ধের লালসার শিকার হয়েছে ৮ বছরের এক কোমলমতি শিশু। উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নছর নগর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ন্যাক্কারজনক ও কলঙ্কিত ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও জনরোষ বিরাজ করছে। অভিযুক্ত ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোঃ আনছর আলীকে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়:- নরসিংপুর ইউনিয়নের নছর নগর গ্রামের হাফিজ গৌছ উদ্দিনের ৮ বছর বয়সী কন্যা শিশুটিকে একা পেয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায় প্রতিবেশী বৃদ্ধ আনছর আলী। শিশুটির আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে উপস্থিত জনতা তাৎক্ষণিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভিযুক্তকে হাতে-নাতে আটক করতে সক্ষম হয়।

নির্যাতিত শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি মানসিকভাবে প্রচণ্ড আতঙ্কিত এবং তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালেও স্থানান্তর করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নছর নগরসহ আশপাশের গ্রামে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত বৃদ্ধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্ত আনছর আলীকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান:- পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করে এমন জঘন্য ও কলঙ্কিত ঘটনায় স্তব্ধ পুরো এলাকা। নছর নগর গ্রামের সাধারণ মানুষ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, এমন জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন সাহস না পায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি বলেন:- এই পবিত্র মাসে একজন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের কাছ থেকে এমন অমানবিক আচরণ সমাজকে লজ্জিত করেছে। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই পাষণ্ডের এমন সাজা হোক যা দেখে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন ধৃষ্টতা দেখাতে না পারে।

দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং স্পর্শকাতর। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং বর্তমানে সে থানা হেফাজতে রয়েছে।

এই বিষয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান আছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরণের আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​বর্তমানে নছর নগর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন না থাকলেও পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন। এই পাশবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সবস্তরে নিন্দার ঝড় বইছে।