সাইফুল ইসলাম তুহিন
স্টাফ রিপোর্টার
নোয়াখালীর হাতিয়ার ঐতিহ্যবাহী জাহাজমারা হাই স্কুল প্রাঙ্গণে আগামী ২৩ মার্চ ২০২৬, সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের মিলনমেলা ও ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন। দীর্ঘদিন পর শিকড়ের টানে, স্মৃতির টানে, আর এক অদৃশ্য ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসবেন এই প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
“স্মৃতির ক্যানভাসে ভেলা ভাসিয়ে, স্বাদ আর স্বপ্নের বারি ঝরিয়ে”—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এই মিলনমেলা শুধুমাত্র একটি পুনর্মিলনী নয়; এটি এক আবেগের নাম, এক আত্মার টান, এক অমলিন ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আর এই আয়োজনকে আরও গৌরবময় করে তুলেছে প্রতিষ্ঠানের সুবর্ণজয়ন্তী, যা ৫০ বছরের পথচলার গর্ব, অর্জন ও স্মৃতির এক অনন্য মাইলফলক।
প্রিয় স্কুল প্রাঙ্গণে পা রাখার সাথে সাথেই যেন জেগে উঠবে শৈশব-কৈশোরের সেই দিনগুলো—ক্লাসের ফাঁকে দুষ্টুমি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, শিক্ষকদের স্নেহমাখা শাসন আর মাঠজুড়ে হাসি-আনন্দের রঙিন স্মৃতি।
অনুষ্ঠানটি সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে এবং দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলবে। সূচিতে থাকছে—কুরআন তেলাওয়াত ও উদ্বোধনী বক্তব্য, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সম্মাননা প্রদান, এবং এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন পর্ব, যেখানে কেক কাটা, স্মারক প্রকাশ, এবং ৫০ বছরের গৌরবগাঁথা তুলে ধরা হবে।
এছাড়াও থাকবে স্কুলের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরার বিশেষ পর্ব, যেখানে তুলে ধরা হবে প্রতিষ্ঠানের অর্জন, অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মিলনমেলা ও সুবর্ণজয়ন্তীর মাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়নে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। প্রবাসে অবস্থানরত অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীও ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন এই আয়োজনে, যা মিলনমেলাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে স্মৃতিচারণ, ছবি শেয়ার আর পুরনো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়ার আনন্দঘন মুহূর্ত। অনেকেই বলছেন—“এ যেন আবার ফিরে পাওয়া সেই সোনালি দিন, যেখানে সময় থেমে যায়, আর হৃদয় ভরে ওঠে ভালোবাসায়।”
জাহাজমারা হাই স্কুলের এই মিলনমেলা ও সুবর্ণজয়ন্তী কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি এক জীবন্ত ইতিহাসের পুনর্জাগরণ—যেখানে অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ এক সুতোয় গাঁথা হয়ে দাঁড়াবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে। জন্মভূমি ও প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়ে এই আয়োজন সত্যিই হয়ে উঠুক সুখ-স্বপ্নের এক উজ্জ্বল প্রতীক—এমন প্রত্যাশাই সবার।