মোঃ উজ্জ্বল সরকার,গাইবান্ধা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা। সোমবার ২৩ মার্চ সোমবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল প্রায় ১১টার দিকে জেপি পাম্প, মৌসুমি বায়ু ফিলিং স্টেশন, ফাঁসিতলা বিনিয়ম ফিলিং স্টেশন এবং কোমরপুর ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্পে পেট্রোল নেই বলে জানানো হয়। এতে করে তেল নিতে আসা চালকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, এসব পাম্পে দিনের বেলায় তেল না থাকার কথা বলা হলেও রাতের আঁধারে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে রহস্য ও সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
কিছু কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণ অকটেন সরবরাহ করা হলেও শুরুতে মাত্র ১০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছিল। পরে জনসাধারণের চাপের মুখে তা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই অকটেনও শেষ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে,একই সময়ে খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এতে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,পাম্পে তেল না থাকার অজুহাত দেখিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করা অত্যন্ত রহস্যজনক। অনেকেই মনে করছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আগে থেকেই তেল মজুদ রেখে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে। ফলে এলাকায় আবারও ‘সিন্ডিকেট বাণিজ্য’ সক্রিয় হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এক ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক বলেন, পাম্পে তেল নাই বলে ফিরিয়ে দিল,কিন্তু একটু দূরেই বেশি দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে এটা কিভাবে সম্ভব ?
সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা জরুরি। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তেলের সরবরাহে বাধা দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে থাকে,তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভোক্তাদের জোর দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।