মোঃ মামুনুর রশীদ,চান্দিনা,কুমিল্লা।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আটকের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন—দৈনিক মানবজমিনের সাংবাদিক মোঃ রাসেল এবং দৈনিক আমার শহর মোঃ আঃ আল- (আলিম)।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করছিলেন ওই দুই সাংবাদিক। এ সময় তাদের আটক করে হ্যান্ডকাপ পরানো হয়, যা স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ সরকারি কাজে বাধা দিলে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারা বা আক্রমণাত্মক আচরণ করলে ৩৫৩ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে শুধুমাত্র ভিডিও ধারণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তারের সময় অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, হ্যান্ডকাপ ব্যবহার করা যাবে কেবল তখনই, যখন পালানোর আশঙ্কা বা সহিংসতার ঝুঁকি থাকে।
এ ঘটনায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সাংবাদিকরা অপরাধী হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি নির্দোষ হয়ে থাকেন, তাহলে এ ধরনের আচরণ ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।