আরিফ হোসেন রাজু,ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার লালমোহনে রীনা রানী (৩৫) নামে চার সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষপানে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা হলেও বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরাব আলী রাস্তার মাথা সংলগ্ন গোমস্তা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রীনা রানী লালমোহন উত্তর বাজারের ‘অদিতি জুয়েলার্স’এর মালিক মিহির হাং-এর স্ত্রী এবং বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে বড় মেয়ে, দশম শ্রেণির ছাত্রী অদিতিকে পড়াশোনা না করার কারণে মা রীনা রানী বকাঝকা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, মেয়ের গায়ে হাত তোলার সংবাদ পেয়ে স্বামী মিহির স্বর্ণকার বাড়িতে এসে স্ত্রী রীনা রানীর ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি ঘরে থাকা বিষ পান করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় মিহির তার তিন সন্তানকে নিয়ে পাশের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছয় মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে একা ছিলেন রীনা। বিষপানের খবর জানাজানি হলে তাকে দ্রুত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে নিহতের বাবার বাড়ির লোকজন আসার আগেই লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক মনোমালিন্য থেকে সৃষ্ট আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও নিহতের বাবার বাড়ির লোকজনের বক্তব্য পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি আরও জানান, নিহতের শ্বশুর রতিশ মোহন হাং বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।