মোঃ কুতুব উদ্দিন,ঢাকা
লোকঐতিহ্যের নানান পরিবেশনায় শুরু হলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৫ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি
পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজন। চৈত্র সংক্রান্তি ১৪৩২ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা, লোকশিল্প প্রদর্শনী এবং বৈশাখী মেলা। ১৩ এপ্রিল সোমবার কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জনাব নিতাই রায় চৌধুরী এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বাংলদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং লোকসাহিত্যের নানান উপকরণ ও অনুষ্ঠানমালায় সাজানো হয়েছে বর্ষবরণের এ আয়োজন। ঢাক ঢোল, লাঠিখেলা, ঘুড়ি উড়ানো,লাটিম খেলা, জারিগান,সারিগান,পটগান,পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা, কবিগান, গাজির গান, গম্ভীরা,ভাওয়াইয়া গান, পুতুলনাট্য পরিবেশনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বৈশাখী মেলার বৈচিত্রপূর্ণ আয়োজন থাকছে বর্ষবরণে।
প্রথম দিন একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবনে বাংলাদেশের লোকশিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী। এরপর উন্মুক্ত মঞ্চে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী এমপি বলেন,অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী এমপি বলেন “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলেও জনগন আস্থা বিশ্বাস থেকে বর্তমান সরকারকে গ্রহণ করেছে।
পহেলা বৈশাখ আয়োজন নিয়ে তিনি বলেন,পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে আমরা নানামুখী কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। পহেলা বৈশাখ আসলে কৃষকের সংস্কৃতি। এদেশের মানুষ আগে কখনই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাহিরে/ অন্য দেশে যায় নি। বরং বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক মনিষীরা এদেশে এসেছে। কিন্তু ঐতিহাসিক নানা কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি। তবে আমরা বিশ্বাস করি সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে আমাদের হারানো গৌরব আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারবো। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমরাই আবার সেরা হিসেবে মাথা তুলে দাড়াতে পারবো।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনাব নূরুল ইসলাম মনি এমপি, মাননীয় চিফ হুইপ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সভাপতিত্ব করেন জনাব কানিজ মওলা সচিব,সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জনাব শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। তিনি বলেন,আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় নিয়েছি তার মূল লক্ষ হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, একটি অসাম্প্রদাযিক বাংলাদেশ। আমরা আজকের এই আয়োজনে চেষ্টা করেছি আমাদের লোক-সংস্কৃতি, আমাদের দেশজ সংস্কৃতির নমুনা এই একাডেমির আঙিনায় তুলে ধরতে।
উদ্বোধনী দিনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শুরুতে ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয়েছে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর।এরপর একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণের এ আয়োজনে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে ধামাইল নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এরপর পরিবেশিত হয়েছে লোকসংগীত, জারিগান, পটগান ও পুঁথি পাঠ। বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশনা ছিলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্যে ।
সবশেষে মঞ্চস্থ হয়েছে লোকসাহিত্যের অন্যতম উপাদান, গ্রামীণ বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম যাত্রাপালা,রহিম বাদশা রূপবান কন্যা।পরিবেশন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
বর্ষবরণ সূচি শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিদিন ই এছাড়া ১৩-১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা চলবে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। বণার্ঢ্য অনুষ্ঠানমালা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।