মোঃ গোলাম রব্বানী প্রতিনিধি ধুনট বগুড়া.

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ থেকে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে চাঁন মিয়া নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়।

ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে যমুনা নদীর ডান তীরে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ওই বাঁধের চুনিয়াপাড়া অংশে রোপণ করা বেশ কিছু গাছ বর্তমানে বেশ বড় ও মূল্যবান হয়ে উঠেছে। শুক্রবার সকালে চুনিয়াপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চাঁন মিয়া কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই বাঁধের একটি রেইনট্রি (কাঠ) গাছ কাটা শুরু করেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

অবৈধভাবে গাছ কাটার বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে মুঠোফোনে অবহিত করেন। অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কাটা বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চাঁন মিয়া বলেন, “যমুনা নদীর বাঁধের ধারে গাছগুলো আমি রোপণ করেছি। এ কারণেই গাছগুলো কাটছিলাম। তবে গাছ কাটার জন্য সরকারি কোনো দপ্তর থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।” তিনি আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে তাকে গাছ কাটতে বর্তমানে নিষেধ করা হয়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী লিটন আলী বলেন, “সরেজমিনে তদন্ত করে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।