মো:রমিজ আলী,
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ে পানিতে ডুবে একাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন। তিনি এসব ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও প্রতিরোধযোগ্য উল্লেখ করে অভিভাবকসহ সকলের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ইউনিয়নে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক শিশুর মৃত্যু আমাদের নাড়া দিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—শিশুরা শুধু পুকুর, খাল বা বড় জলাশয়ে নয়; বরং নিজ ঘর, আঙিনা, গোসলখানা এমনকি বালতি বা গামলার অল্প পানিতেও ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে।
তিনি বলেন, “অনেক অভিভাবক মনে করেন অল্প পানিতে কোনো ঝুঁকি নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো—ছোট শিশুরা মাত্র কয়েক ইঞ্চি পানিতেই ডুবে যেতে পারে। তাই এক মুহূর্তের অসতর্কতাই একটি পরিবারের জন্য আজীবনের বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুদের একা ফেলে রাখা, বাড়ির আশপাশে অরক্ষিত পুকুর-ডোবা, খোলা জলাধার এবং ঘরের ভেতরে পানিভর্তি পাত্র দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এসব ঝুঁকি দূর করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
তিনি অভিভাবকদের প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরে বলেন—শিশুদের কখনোই একা রাখা যাবে না, বিশেষ করে পানির আশপাশে। গোসলখানা ও বাথরুম ব্যবহারের পর পানিভর্তি বালতি বা গামলা দ্রুত খালি করতে হবে। বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের সবসময় বড়দের সরাসরি নজরদারিতে রাখা এবং অল্প বয়স থেকেই সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
ডা. আলতাফ হোসেন আরও বলেন, “একটি শিশুর জীবন রক্ষায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
শেষে তিনি শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে এখনই সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।