
পাহাড় পেরিয়ে স্বাস্থ্যসেবা: সোনাইছড়িতে টিকা থেকে বাদ পড়েনি একটি শিশুও
মো:রমিজ আলী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। কিছু এলাকায় প্রাণহানির খবর অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন—আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও সঠিক তথ্যই এখন সবচেয়ে জরুরি। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন প্রকৃতিনির্ভর ও সরল। তবে দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে এসব এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, ফলে ‘ড্রপ আউট’ শিশুর সংখ্যা বাড়তে পারে। এই বাস্তবতায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাপ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল—ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো শিশু জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে কি না তা শনাক্ত করা এবং তাদের টিকার আওতায় আনা। অভিযানে অংশ নেন টিকা কর্মী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং ইপিআই সদস্যরা। তারা দলবদ্ধভাবে দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছান। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ পথ হেঁটে ও প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকাদান কার্ড যাচাই করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। এই কার্যক্রমে প্রায় ৫৫টি পরিবারের ৭০ জন মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো—একজন শিশুকেও টিকাদান থেকে বাদ...
মো:রমিজ আলী,
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। কিছু এলাকায় প্রাণহানির খবর অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন—আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও সঠিক তথ্যই এখন সবচেয়ে জরুরি।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন প্রকৃতিনির্ভর ও সরল। তবে দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে এসব এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, ফলে ‘ড্রপ আউট’ শিশুর সংখ্যা বাড়তে পারে।
এই বাস্তবতায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাপ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল—ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো শিশু জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে কি না তা শনাক্ত করা এবং তাদের টিকার আওতায় আনা।
অভিযানে অংশ নেন টিকা কর্মী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং ইপিআই সদস্যরা। তারা দলবদ্ধভাবে দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছান। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ পথ হেঁটে ও প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকাদান কার্ড যাচাই করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
এই কার্যক্রমে প্রায় ৫৫টি পরিবারের ৭০ জন মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো—একজন শিশুকেও টিকাদান থেকে বাদ পড়া অবস্থায় পাওয়া যায়নি। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং স্থানীয় সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত তদারকি এবং সময়মতো সেবা প্রদানের একটি ইতিবাচক ফলাফল।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাপ হোসেন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু টিকা দেওয়া নয়, বরং প্রতিটি শিশুর সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। দুর্গম এলাকার মানুষদের কাছেও সমানভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য দুর্গম এলাকার জন্য একটি অনুসরণযোগ্য উদাহরণ। এর মাধ্যমে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য বাড়বে এবং শিশুমৃত্যুর হার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।