
শ্রীপুরে ‘নতুন ভোরের’ প্রত্যাশা: সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত জনপদ গড়ার চ্যালেঞ্জে ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু
উসমান গনি শ্রীপুর গাজীপুর প্রতিনিধি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়ন নিয়ে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সংখ্যার হিসাবের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মানুষের প্রত্যাশা-এই বিজয় কি শ্রীপুরের জন্য বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করতে পারবে? ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত নন; তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি শ্রীপুরবাসীর কাছে পরিচিত মুখ। দলের প্রতিকূল সময়ে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও দৃঢ় করেছে। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা-“সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত শ্রীপুর চাই”-ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নির্বাচনের পর সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই তিনটি শব্দই শ্রীপুরের প্রধান চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করে। জননিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং তরুণ সমাজকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা-এ তিনটি ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ। গাজীপুর-৩ আসনের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে শ্রীপুর উপজেলা। শিল্পাঞ্চল, কৃষিনির্ভর গ্রাম এবং দ্রুত নগরায়ণের প্রভাব-সব মিলিয়ে এ অঞ্চলটি বহুমাত্রিক সমস্যার মুখোমুখি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত চাপ, কর্মসংস্থানের...
উসমান গনি শ্রীপুর গাজীপুর প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়ন নিয়ে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছে।
স্বাধীনতার পর এই প্রথম এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সংখ্যার হিসাবের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মানুষের প্রত্যাশা-এই বিজয় কি শ্রীপুরের জন্য বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করতে পারবে?
ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত নন; তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি শ্রীপুরবাসীর কাছে পরিচিত মুখ। দলের প্রতিকূল সময়ে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও দৃঢ় করেছে।
নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা-“সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত শ্রীপুর চাই”-ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নির্বাচনের পর সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই তিনটি শব্দই শ্রীপুরের প্রধান চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করে।
জননিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং তরুণ সমাজকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা-এ তিনটি ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ। গাজীপুর-৩ আসনের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে শ্রীপুর উপজেলা। শিল্পাঞ্চল, কৃষিনির্ভর গ্রাম এবং দ্রুত নগরায়ণের প্রভাব-সব মিলিয়ে এ অঞ্চলটি বহুমাত্রিক সমস্যার মুখোমুখি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত চাপ, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ফলে নতুন সংসদ সদস্যের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়।
তবে তার পেশাগত পরিচয়-একজন চিকিৎসক হিসেবে-আলাদা প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। শ্রীপুর ও আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন বহুদিনের দাবি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় প্রায়ই।
অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহর কিংবা রাজধানীমুখী হতে হয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, স্বাস্থ্যখাতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিলে তা সরাসরি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
একই সঙ্গে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতেও প্রত্যাশা রয়েছে। শ্রীপুরের তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ শিল্পকারখানা ও অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হলেও দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে এলাকার অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে। সংসদ সদস্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রাজনীতির বাস্তবতা হলো-প্রত্যাশা যত বড়, দায়বদ্ধতাও তত বেশি। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সমন্বিত উদ্যোগ। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। ফলে ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে একটি অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন মডেল গড়ে তোলা।
গাজীপুর-৩ আসনের ভোটাররা তাদের রায়ের মাধ্যমে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এখন সময় সেই রায়কে সম্মান জানিয়ে উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবিক রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করার। শ্রীপুরবাসীর প্রত্যাশা স্পষ্ট-নিরাপদ জনপদ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা।