
গফরগাঁও বহ্মপুত্র বালু দখল ও সংঘর্ষ: ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন বহিষ্কৃত
আদিলুর রহমান,ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে বালু উত্তোলন ও দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং ১১টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনার জেরে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ মোক্তার হোসেনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ, ২০২৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে ৩টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনের শতাধিক অনুসারী পৌর শহরের চরআলগী মৌজায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। জমির মালিকরা বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে নৌকার মাঝি ওয়াইজ উদ্দিন ওরফে পাবলিককে মারধর করে এবং তার নৌকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গ্রামবাসীর ধাওয়ায় মুক্তার ও তার অনুসারীরা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা ফেলে যাওয়া ১১টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আবদুল কাইয়ুম গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার থেকেই মুক্তার হোসেন দলবল নিয়ে বালুর ঘাট দখল করার চেষ্টা করছিলেন। আজ আবারও বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ঘাটে গেলে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়েন। জেলা যুবদলের নেতা আবদুল আজিজ সাদেক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ...
আদিলুর রহমান,ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি।
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে বালু উত্তোলন ও দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং ১১টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনার জেরে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ মোক্তার হোসেনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ, ২০২৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে ৩টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনের শতাধিক অনুসারী পৌর শহরের চরআলগী মৌজায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। জমির মালিকরা বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে নৌকার মাঝি ওয়াইজ উদ্দিন ওরফে পাবলিককে মারধর করে এবং তার নৌকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গ্রামবাসীর ধাওয়ায় মুক্তার ও তার অনুসারীরা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা ফেলে যাওয়া ১১টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আবদুল কাইয়ুম গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার থেকেই মুক্তার হোসেন দলবল নিয়ে বালুর ঘাট দখল করার চেষ্টা করছিলেন। আজ আবারও বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ঘাটে গেলে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়েন।
জেলা যুবদলের নেতা আবদুল আজিজ সাদেক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পদক্ষেপ:
সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ এবং “সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের” ভিত্তিতেই মুক্তার হোসেনকে দ্রুততম সময়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। উল্লেখ্য যে, গত বছরও (২০২৫ সালের ১৭ মার্চ) একই উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নে বালু তোলা নিয়ে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছিল। বারংবার ঘটে যাওয়া এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় দলীয় কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করতেই কেন্দ্রীয় সংসদ এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।