
মুসলিম শাসকদের পতনের ইতিহাস থেকে একটা ‘লেসন লার্ন্ড’ খুবই ‘কমন’
সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি কিংবা ওমর আল-বশির; এক সময়ের দাপুটে এইসব মুসলিম শাসকদের পতনের ইতিহাস থেকে একটা 'লেসন লার্ন্ড' খুব 'কমন' আর তা হলঃ মুসলিম বিশ্বের 'রেজিম চেঞ্জ' বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে স্বপ্ন পশ্চিমা শক্তিগুলো আমাদের দেখায়, তার বাস্তব পরিণতি কী হতে পারে, তা ইরাক, লিবিয়া এবং সুদানের বর্তমান মানচিত্রের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। সাদ্দাম এবং গাদ্দাফিকে শুধু ক্ষমতাচ্যুতই করা হয়নি, বরং নিজ দেশেই ন্যাক্কারজনকভাবে অপমানিত ও হত্যা করা হয়েছিল। পশ্চিমা শক্তির মদতে আসা সেই 'পরিবর্তন' কি দেশগুলোতে শান্তি এনেছে? ১. লিবিয়া: গাদ্দাফির সময়ে লিবিয়া ছিল আফ্রিকার অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ। আজ সেই লিবিয়া কয়েক টুকরোয় বিভক্ত এবং সশস্ত্র মিলিশিয়াদের স্বর্গরাজ্য। ২. ইরাক: সাদ্দাম-পরবর্তী ইরাক এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএস এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী। ৩. সুদান: বশিরের পতনের পর গণতন্ত্রের বদলে দেশটি এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম এক গৃহযুদ্ধের আগুনে জ্বলছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বাইরের হস্তক্ষেপে আসা তথাকথিত 'মুক্তি' আসলে দেশগুলোকে দুর্বল করেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে নরকে পরিণত করেছে। আজ ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছে, তখন এই ঐতিহাসিক উদাহরণগুলো সামনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিবর্তন বা পরিবর্তন হওয়া উচিত সেই দেশের জনগণের নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে। বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের ফলাফল যে দীর্ঘস্থায়ী পরাধীনতা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছু নয়, তা ইতিহাস বারবার প্রমাণ...
সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি কিংবা ওমর আল-বশির; এক সময়ের দাপুটে এইসব মুসলিম শাসকদের পতনের ইতিহাস থেকে একটা ‘লেসন লার্ন্ড’ খুব ‘কমন’ আর তা হলঃ
মুসলিম বিশ্বের ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে স্বপ্ন পশ্চিমা শক্তিগুলো আমাদের দেখায়, তার বাস্তব পরিণতি কী হতে পারে, তা ইরাক, লিবিয়া এবং সুদানের বর্তমান মানচিত্রের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।
সাদ্দাম এবং গাদ্দাফিকে শুধু ক্ষমতাচ্যুতই করা হয়নি, বরং নিজ দেশেই ন্যাক্কারজনকভাবে অপমানিত ও হত্যা করা হয়েছিল। পশ্চিমা শক্তির মদতে আসা সেই ‘পরিবর্তন’ কি দেশগুলোতে শান্তি এনেছে?
১. লিবিয়া: গাদ্দাফির সময়ে লিবিয়া ছিল আফ্রিকার অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ। আজ সেই লিবিয়া কয়েক টুকরোয় বিভক্ত এবং সশস্ত্র মিলিশিয়াদের স্বর্গরাজ্য।
২. ইরাক: সাদ্দাম-পরবর্তী ইরাক এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএস এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী।
৩. সুদান: বশিরের পতনের পর গণতন্ত্রের বদলে দেশটি এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম এক গৃহযুদ্ধের আগুনে জ্বলছে।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বাইরের হস্তক্ষেপে আসা তথাকথিত ‘মুক্তি’ আসলে দেশগুলোকে দুর্বল করেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে নরকে পরিণত করেছে।
আজ ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছে, তখন এই ঐতিহাসিক উদাহরণগুলো সামনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিবর্তন বা পরিবর্তন হওয়া উচিত সেই দেশের জনগণের নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে। বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের ফলাফল যে দীর্ঘস্থায়ী পরাধীনতা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছু নয়, তা ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে।
আবেগ নয়, বরং দূরদর্শিতাই হোক আমাদের পথচলার মূলমন্ত্র। কারণ, স্থিতিশীলতা হারানো সহজ, কিন্তু ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্রকে পুনরায় গড়ে তোলা কয়েক প্রজন্মের লড়াইয়ের সমান।
#Geopolitics #Iran #History #RegimeChange #Libya #Iraq #Sudan #ForeignPolicy #Alert