
“সমতার কথা কাগজে, বাস্তবে বঞ্চনা—দেওয়ানগঞ্জের তৃতীয় লিঙ্গের আর্তনাদ”
মোঃ রিফাত আলী দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি : জামালপুর জেলা দেওয়ানগঞ্জে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ঈদ: আনন্দ নয় বঞ্চনার গল্প পবিত্র ঈদুল ফিতর সাম্য, সহমর্মিতা ও আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠীর জীবনে এবারের ঈদ এসেছে হতাশা ও বঞ্চনা নিয়ে। উপজেলার প্রায় ৭০ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ অভিযোগ করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ পাননি। ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত বা সহায়তা মেলেনি। তাদের দাবি, তারা এই দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ন্যূনতম মানবিক সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং ২৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লিঙ্গভেদে রাষ্ট্র কোনো বৈষম্য করতে পারে না। এছাড়া ২০১৩ সালে সরকার তৃতীয় লিঙ্গকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের প্রশ্ন—মুষ্টিমেয় এই জনগোষ্ঠীর জন্য উপজেলা পর্যায়ে কি কোনো বিশেষ বরাদ্দ নেই? সরকারি জিআর চাল বা ঈদ উপহারের সামান্য খাদ্যসামগ্রী থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিরা বলেন, “আমরা ভিক্ষা চাই না, আমরা নাগরিক অধিকার চাই। রাষ্ট্র যদি আমাদের স্বীকৃতি...
মোঃ রিফাত আলী
দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি :
জামালপুর জেলা দেওয়ানগঞ্জে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ঈদ: আনন্দ নয় বঞ্চনার গল্প
পবিত্র ঈদুল ফিতর সাম্য, সহমর্মিতা ও আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠীর জীবনে এবারের ঈদ এসেছে হতাশা ও বঞ্চনা নিয়ে।
উপজেলার প্রায় ৭০ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ অভিযোগ করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ পাননি। ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত বা সহায়তা মেলেনি।
তাদের দাবি, তারা এই দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ন্যূনতম মানবিক সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং ২৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লিঙ্গভেদে রাষ্ট্র কোনো বৈষম্য করতে পারে না।
এছাড়া ২০১৩ সালে সরকার তৃতীয় লিঙ্গকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে তাদের প্রশ্ন—মুষ্টিমেয় এই জনগোষ্ঠীর জন্য উপজেলা পর্যায়ে কি কোনো বিশেষ বরাদ্দ নেই? সরকারি জিআর চাল বা ঈদ উপহারের সামান্য খাদ্যসামগ্রী থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিরা বলেন,
“আমরা ভিক্ষা চাই না, আমরা নাগরিক অধিকার চাই। রাষ্ট্র যদি আমাদের স্বীকৃতি দেয়, তবে সেই স্বীকৃতির বাস্তব প্রতিফলনও দেখতে চাই।”
তাদের দাবি, অবিলম্বে দেওয়ানগঞ্জের তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি সরকারি ভাতার তালিকা ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং কর্মসংস্থান ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে মূলধারার সমাজে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সমাজের কোনো জনগোষ্ঠীকেই পিছিয়ে রাখা যাবে না। দেওয়ানগঞ্জের এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের আর্তনাদ দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।