
সীতাকুণ্ডে অবৈধভাবে মজুত ২৫ হাজার লিটার ডিজেল আটক, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
মো. রমিজ আলী সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে প্রশাসন। উপজেলার ফৌজদারহাট সিডিএ রোড এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল আটক করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের অবৈধ মজুত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসনের একটি যৌথ দল ফৌজদারহাট সিডিএ রোডে জনৈক মো. নাসিরের মালিকানাধীন একটি তেলের ডিপোতে অভিযান চালায়। অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত করে রাখা হয়েছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে এসব জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাহাবুব আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ডিজিএফআই-এর সদস্যদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টিম অভিযানে অংশ নেয়, যা অভিযানের গুরুত্ব ও ব্যাপকতাকে নির্দেশ করে। অভিযান পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট ডিপোর মালিক বা দায়িত্বরত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের খবর পেয়ে তারা আগে থেকেই সরে পড়েছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। জব্দ করা ২৫ হাজার লিটার ডিজেল বর্তমানে...
মো. রমিজ আলী
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে প্রশাসন। উপজেলার ফৌজদারহাট সিডিএ রোড এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল আটক করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের অবৈধ মজুত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসনের একটি যৌথ দল ফৌজদারহাট সিডিএ রোডে জনৈক মো. নাসিরের মালিকানাধীন একটি তেলের ডিপোতে অভিযান চালায়। অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত করে রাখা হয়েছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে এসব জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাহাবুব আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ডিজিএফআই-এর সদস্যদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টিম অভিযানে অংশ নেয়, যা অভিযানের গুরুত্ব ও ব্যাপকতাকে নির্দেশ করে।
অভিযান পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট ডিপোর মালিক বা দায়িত্বরত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের খবর পেয়ে তারা আগে থেকেই সরে পড়েছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জব্দ করা ২৫ হাজার লিটার ডিজেল বর্তমানে পুলিশের কঠোর পাহারায় রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে তেলবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এর পরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অবৈধ মজুতদারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে জ্বালানি তেলের বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে।